Home > News
কম মজুরির কারণে শ্রমিক না পাওয়ায় বাস্তবায়নে জটিলতা
নারায়নগঞ্জের ৫ উপজেলায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসঙস্থান প্রকল্পের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাজারে গড় মজুরির চেয়ে সরকার নির্ধারিত মজুরি কম হওয়ায় শ্রমিকেরা কেউ এই প্রকল্পের কাজে আগ্রহী হচ্ছে না। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপাকে পড়েছেন সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁরা বলছেন, চাহিদামতো শ্রমিক পাওয়া না গেলে এ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশংকা রয়েছে।

প্রকল্পের নীতিমালা পরিবর্তন করে প্রকল্পের কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের প্রকল্পের সভাপতি থাকার বিধান স্থগিত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তঁারা। বাঙলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ১ মার্চ এ কর্মসূচির কার্যক্রম ষ্থগিত করেছে। বিভাগ গতকাল বুধবার হাইেকর্টের দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা দুই সপ্তাহ স্থহিত করেন।

জানা যায়, সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য পল্লি অঞ্চলের অতিদরিদ্র ো বেকার জনগোষ্টিীর কর্মসঙস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশের মতো নারায়নগঞ্জ জেলা সদর, সোনারগা, বন্দর, আড়াইহাজার ো রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তাঘাট নির্মানের জন্য ১২ হাজার ৫৪৬ জন কার্ডধারী অতিদরিদ্র বেকার যুবকদের মধ্যে প্রতিদিন ১২০ টাকা হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য ছয় কোটি দুই খাল ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির শর্তাবলীর ১১ নম্বর ক্রমিকের (থ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দৈনিক একজন শ্রমিককে সাত ঘন্টা করে কাজ এবঙ ৪৫ ঘটফুট মাটির কাজ করতে হবে। মোট শ্রমিকের এক-তৃতীয়াঙশ নারী শ্রমিক হতে হবে।

এ কর্মসূচি ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে মাসে ২০ দিন করে ৪০ দিন চলার কথা। সে অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ চলার কথা। মন্ত্রণালয় থেকে এ কর্মসূচির পরিপত্র আসার সংগে সংগে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা, বিশেষ করে সদর, সোনারঁগা, বন্দর ও রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিপাকে পড়েছেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, সরকার মূলত নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের কর্মসঙস্থানে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। রাজধানীর পাশে নারায়নগঞ্জ এসব মানুষের সংখ্যা কম। এ ছাড়া স্থানীয় শিল্প-কারখানায় স্থানীয় শ্রমিকদের চাহিদা থাকায় বেকার শ্রমিক ও কম। এলাকার শ্রমিকেরা প্রতিদিন ছয় ঘন্টা কাজ করে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় করে থাকে। তাই এ এলাকায় ১২০ টাকার বিনিময়ে সাত ঘন্টা কাজ করার জন্য কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না। সোনারগা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূসিয়া কমল বলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করে ১২০ টাকা মজুরির বিনিময়ে সাত ঘন্টা করে শ্রম দেওয়ার মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাককে জানিয়েছি। রূপগঞ্জের ইউএনও নাহিদ সূলতানা মল্লিক বলেন, এত কম টাকায় কাজ করতে কোনো শ্রমিক রাজি হচ্ছে না। পাচ ঘন্টা কাজ করেই তারা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিক পাওয়া না গেলে প্রকল্পের কাজে দূর্নীতির আশং্কা থাকবে। ভূয়া শ্রমিকদের নামে মাষ্টার রোল দেখিযে অর্থ আত্মসাৰ করার সুযোগ থাকবে।
সাবিক বিষয়ে নারায়নগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সামছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ১২০ টাকা মজুরিতে সাত ঘন্টা শ্রম দেওয়ার মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর পাচ্ছি। এর পরও সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা চেষ্টা করব।

Hazrat Ali, 2010-03-04 14:01, Hit : 284